সবজির জেলা হিসেবে পরিচিত মেহেরপুরে হঠাৎ করেই নিত্যপণ্যের বাজারে আগুনের উত্তাপ দেখা দিয়েছে। বৈরী আবহাওয়া ও টানা বর্ষণের কারণে মাঠের ফসল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে সবজির সরবরাহ আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। কাঁচা মরিচ ও বেগুনসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। ফলে বাড়তি দামের চাপে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা।
শনিবার (২৫ জুলাই) মেহেরপুর বড় বাজারসহ জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অনেক ক্রেতাকেই প্রয়োজনের তুলনায় কম সবজি কিনতে কিংবা খালি হাতে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে।
সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচ ও বেগুনের। কয়েক দিন আগেও ১০০ টাকার নিচে থাকা কাঁচা মরিচ এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে। আর বেগুনের দাম বেড়ে হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি।
এ ছাড়া গাজর বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা, টমেটো ১৬০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, উস্তে ৭০ টাকা, কাঁকরোল ৭০ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০ টাকা এবং পটল, কচু, চিচিঙ্গা, পেঁপে ও পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। ৫০ টাকার নিচে বাজারে হাতে গোনা কয়েকটি সবজি ছাড়া আর কিছুই মিলছে না।
মেহেরপুর বড় বাজারে কেনাকাটা করতে আসা রমজানুল করিম বলেন, 'টানা বৃষ্টির পর বাজারে প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে গেছে। যে জেলায় এত সবজি উৎপাদিত হয়, সেখানে হঠাৎ এমন দাম বৃদ্ধিতে আমাদের মতো নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।'
স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদ খান বলেন, 'বাজারে ঢুকে প্রতিটি সবজির দাম শুনে মাথা ঘুরে যায়। কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা, বেগুন ১০০ টাকার নিচে নেই। অন্য সবজিরও একই অবস্থা। প্রতিদিনের বাজার খরচ সামলাতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।'
বড় বাজারের ‘মিয়ারুল সবজি ভান্ডার’-এর ব্যবসায়ী সাজেদুর রহমান বলেন, 'অতিরিক্ত বৃষ্টিতে জমির অধিকাংশ সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে শুধু মাচায় চাষ করা কিছু সবজি বাজারে আসছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম থাকায় পাইকারি বাজারেই দাম বেশি। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা নেই।'
খুচরা বিক্রেতা আলামিন বলেন, 'আমরা আড়ত থেকে বেশি দামে সবজি কিনে আনছি। তাই বাধ্য হয়ে খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আগে যেখানে দিনে তিন থেকে চার মণ সবজি বিক্রি হতো, এখন মানুষ কম কিনছে। বিক্রি না হলে আমাদেরও লোকসান গুনতে হচ্ছে।'
জেলা শহরের বড় বাজার ছাড়াও গাংনী ও মুজিবনগরের হাট-বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। ক্রেতা, বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের ধারণা, আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে নতুন ফসল বাজারে না আসা পর্যন্ত সবজির এই অস্বাভাবিক মূল্য পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।